Phone : +8801841-937872      Email : info@anjumantrust.org

হযরতুল আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ্ (মুঃ)

আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ (মুদ্দাযিল্লহুল আলী)’র সংক্ষিপ্ত জীবন পরিক্রমা

তাঁর জন্ম ১৯৪১ সনে | তাঁর একনিষ্ঠ খাদিম মরহুম হাজী মুহাম্মদ রশীদুল হকের মতে, ১৯৪১ সনটি যথাযথ | উল্লেখ্য, তিনি আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হির পরে এ সিলসিলার হাল ধরেন এবং ক্রমান্বয়ে উন্নত শিখরে নিয়ে যাচ্ছেন | ১৯৫৮ সালে হজ্ব পালনকালে ‘আরাফাতের ময়দানে’ তাঁর পিতামহ আল্লামা সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হির হাতে তিনি বায়’আত গ্রহণ করেন | হুযূর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র এ ৪০তম বংশধর ১৯৭৬ সালে স্বীয় পিতা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি হতে খিলাফত প্রাপ্ত হন | বর্তমানে তাঁর সিলসিলার কার্যক্রমে দেশ-বিদেশে প্রায় এক কোটি লোক অংশ গ্রহণ করেছেন | অতি অল্প সময়ে এমন দ্রুত উন্নতি নিঃসন্দেহে তাঁর কামালিয়াতের বহিঃপ্রকাশ |

এ সিলসিলার গুরু দায়িত্ব অর্পণের ক্ষেত্রে হযরত তাহের শাহ মুদ্দাযিল্লুহুল আলীর বেলায়ও তাঁর পিতা মহোদয়ের অবস্থার ব্যত্যয় ঘটেনি | হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র ন্যায় তাঁর মর্যাদাও তুলে ধরা হয়েছে ও তাঁকে ইমামতির নির্দেশ দান করা হয়েছে | যার পরিপ্রেক্ষিতে, হযরত সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি হতে যাঁরা খিলাফত লাভ করেছেন, তাঁদের মধ্যে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ মুদ্দাযিল্লুহুল আলীর অবস্থান শীর্ষে | তিনি তাঁর উপর অর্পিত বিশেষ গুরু দায়িত্ব পূরণ করে আসছেন | তাই তিনি তদীয় পিতার রেখে যাওয়া মিশনের খলীফা-ই আ’যম | শিক্ষা জীবনে তিনি স্বদেশের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন | এ ছাড়াও তাফসীর, হাদীস, আক্বাঈদ, ফিক্বহ ও উসূল প্রভৃতি ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞানের সকল বিষয়ে মাত্র কয়েক বছরে বুৎপত্তি অর্জন করেন | তাঁর শিক্ষাগুরু ছিলেন পিতামহ আল্লামা সৈয়্যদ আহমদ শাহ সিরিকোটি ও পিতা আল্লামা সাইয়্যেদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি প্রমুখ | অধিকন্তু নবীকুল সরদার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র তাওয়াজ্জুহে তিনি সবিশেষ লালিত-পালিত হন | ১৯৪৫ সালে তাঁর বয়স যখন পাঁচ বছর, তখন তাঁর পিতামহ আল্লামা সাইয়্যেদ আহমদ শাহ সিরিকোটি রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি হুযূর-ই আকরাম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর রওযা মুবারক যিয়ারত করতে উপস্থিত হন | এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁকে নির্দেশ দিলেন যেন আগামীতে আসার সময় প্রিয় নাতি সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহকে সাথে নিয়ে আসেন | তিনি দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক ও সাধারণ জ্ঞানও অর্জন করতে থাকেন | পরে গর্ভমেন্ট মেডিকেল কলেজে তিনি এফ.এস.সি.তে ভর্তি হন এবং ফাইনাল পর্যন্ত অধ্যয়ন করে চিকিৎসা শাস্ত্রে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করেন | এ ছাড়াও আধুনিক উন্নত প্রযুক্তির প্রকৌশল ও কারিগরীতে তাঁর জ্ঞান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষতা বিশেষজ্ঞদেরকেও হতভম্ব করে দেয় | তাঁর জ্ঞান অর্জনের এ ধারাটির আল্লামা ফদ্বলে রাসূল বদায়ূনী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি ও আল্লামা না‘ঈমুদ্দীন মুরাদাবাদী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র শিক্ষাজীবনের সাথে মিল রয়েছে |

মোট কথা, ধর্মীয় ও জাগতিক জ্ঞানে পারদর্শী এ মহান ওলি তাঁর এ জ্ঞান-গরিমাকে গোপন রাখতে সদা তৎপর থাকেন | কদাচিৎ প্রকাশ হয়ে গেলে সাথে সাথে তা তিনি স্বীয় পীর-মাশায়েখের দিকে সম্পৃক্ত করে দেন | তদুপরি, নিরবতা অবলম্বন ও সদালাপ তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য | নিতান্ত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তাঁর সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যবহ এবং ইহ ও পরকালের দিকনির্দেশনাপূর্ণ বক্তব্য অনন্য | এমনিতে তিনি পারিবারিক সূত্রে আধ্যাত্মিকতায় স্নাত হয়ে জন্মগ্রহণ করেন এবং তাতে তিনি চমৎকার উৎকর্ষ লাভ করেন | তারপরও তিনি কঠোর ইবাদত-রিয়াযতে মনোনিবেশ করেন | বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, তিনি একাধারে সাত বছর বিনিদ্র ইবাদতে মশগুল ছিলেন | যে দিন তাঁর পিতা আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি এ পৃথিবী হতে বিদায় গ্রহণ করেছেন, সেদিনের আগের রাতে তাঁর পিতা স্বীয় বিছানায় তাঁকে নিদ্রা যাওয়ার নির্দেশ প্রদান করেন | তিনি ইতস্ততাবোধ করলে পিতার কঠোর নির্দেশে শুয়ে পড়ার সাথে সাথে নিদ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন | মধ্যরাতে হঠাৎ যখন তাঁর ঘুম ভেঙ্গে যায়, তখন তিনি দেখলেন যে, তাঁর পিতা তাহাজ্জুদের নামায আদায়রত |

পিতার ইন্তিকালের পর ওই রাতে ঘুমের কারণে ওযূর পানির ব্যবস্থা করার সুযোগ না হওয়ায় আপনজনদের কাছে তাঁকে আফসোস করতে দেখা গেছে | আল্লাহ তা’আলার ইবাদতের মাধ্যমে পিতার খিদমতে বিনিদ্র রাত যাপনের দৃষ্টান্ত এ যুগে সত্যই বিরল | তাই তো তাঁর চেহারায় পরিদৃষ্ট হয় কখনো বা লাল গোলাপের রক্তিমাভা আবার কখনো পূর্ণিমা চাদেঁর সেই দৃষ্টি নন্দন বর্ণ | যখন তিনি ভাবোচ্ছ্বাসে থাকেন, তখন যে আলোকরশ্মি বিকশিত হয়, তা ইলেক্ট্রনিক লাইটের চোখ ধাঁধানো আলোকেও হার মানায় |

বস্তুত তিনি হলেন জ্ঞানী-গুণীদের বিস্ময়, হিদায়তের চুম্বক, ক্বুদরতের ঝলক, নবীকুল সরদারের অভিলাষ, অসহায়-দু:খী জনতার কাণ্ডারী | যেখানে খ্যাতনামা আলিমদের পক্ষে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ওয়ায-তাক্বরীর করে দু’একজনকে হিদায়ত করা দূরূহ ব্যাপার, সেখানে তাঁর এক পলক দৃষ্টিতেই হাজার হাজার মানুষ হিদায়ত গ্রহণ করা, নামাযী-তাহাজ্জুদ-গুযার হওয়া এবং দ্বীন-মাযহাবের একনিষ্ঠ খাদিমে পরিণত হওয়া সত্যিই তাঁর অনন্য কারামত | হিদায়ত দানে তাঁর এ প্রক্রিয়াটি খাজা গরীব নাওয়ায হযরত মঈনুদ্দীন চিশতী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র বরকতপূর্ণ নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ | খাজা গরীব নাওয়ায রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি কোন মাহফিল বা সম্মেলনে ওয়ায- তাক্বরীর করতেন না; অথচ হাজার হাজার লোক তাঁকে দেখে ঈমান আনত | আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তাহের শাহ’র শ্রদ্ধেয় পিতা সুন্নী ও সুন্নীয়তের মাঠ পর্যায়ে যে সংস্কার করে গেছেন, তিনি সেগুলো আরো এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন |

মহান আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি তাঁর দৃঢ় আস্থা, প্রেম-প্রীতি ও সম্মান তাঁর পাথেয়, সুন্নাত ও সুন্নীয়ত তাঁর জীবনধারা, নিবৃত্তে ইবাদত-বন্দেগী ও জ্ঞানর্চচা তাঁর সাধনা, শান্ত-শিষ্টতা তাঁর অভ্যাস এবং নিরব প্রয়াস তাঁর কর্মপন্থায় পরিগণিত | তাই রিয়া মুক্ত সাদাসিধে দিনাতিপাত করা তাঁর সহজাত ব্যাপার | একই সাথে গাউসুল আ’যম শায়খ আবদুল ক্বাদির জিলানী রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি’র সাথে তাঁর নিগূঢ় সম্পর্ক বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য |

১৯৮৭ সাল হতে পিতার নির্দেশক্রমে সিলসিলার প্রচার-প্রসারের কাজে সরাসরি অংশ গ্রহণ করেন তিনি | তাঁর সান্নিধ্য প্রাপ্তদের মতে তিনি স্বীয় জযবাত, কামালিয়াত ও ভক্তদের আবেগোচ্ছাসকে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম | বড়দের সম্মান করা ও ছোটদের স্নেহ করায় তিনি অনন্য | নবীকুল সরদার সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মানের ক্ষেত্রে তিনি আপোষহীন | শরী‘আতের অনুসরণ-অনুশীলন, পাকাপোক্ত ইয়াক্বীন ও ইখলাস-মুহাব্বত তাঁর প্রেসক্রিপশন | তাই তো হাজার হাজার মানুষের ভীড়ের মাঝে দূরে-কাছের এ সব আমল-সচেষ্টদের প্রতি সমানভাবে তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ হওয়া সত্যই বিস্ময়কর | এ জন্য আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ রাহমাতুল্লাহি তা‘আলা আলায়হি বলেছিলেন, ‘‘এমনও সময় আসবে যখন তাঁকে দূর হতে এক নযর দেখাটাও মহামূল্যবান অনুভূত হবে |’’ মহান আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ, তাঁর দীর্ঘায়ু হোক, তাঁর সান্নিধ্য দীর্ঘায়িত হোক ! আ-মী-ন |

 

 

 

 

You are donating to : Anjuman-E Rahmania Ahmadia Sunnia Trust

How much would you like to donate?
৳11 ৳111 ৳1,100
Name *
Last Name *
Email *
Phone
Address
Additional Note
Loading...